কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত


 

রোযা কী?

রমযানের রোযা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ঈমান, নামায ও যাকাতের পরই রোযার স্থান। রোযার আরবি শব্দ হলো "সওম", যার অর্থ বিরত থাকা। ইসলামি পরিভাষায়, সুবহে সাদিক (ভোরের আলো ফোটার সময়) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, পান করা, এবং স্ত্রী সহবাসসহ সব রোযা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোযা

কাদের জন্য রোযা রাখা ফরয?
রমযান মাসের চাঁদ দেখা গেলে, সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমান পুরুষ ও নারীর জন্য রোযা রাখা ফরয। নারীদের মাসিক (হায়েয) বা সন্তান জন্মের পরবর্তী রক্তস্রাব (নেফাস) থাকলে রোযা রাখতে হয় না, তবে পরবর্তীতে তা কাজা করতে হয়।

কুরআনের বক্তব্য:
আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

(তরজমা) "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ

(তরজমা) "যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে।" (সূরা বাকারা: ১৮৫)

হাদীসের আলোকে রোযার গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমরা যখন রমযানের চাঁদ দেখবে, তখন রোযা শুরু করবে, আর শাওয়ালের চাঁদ দেখলে ঈদ করবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে ৩০ দিন রোযা রাখবে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৯০৯)

রমযানের রোযা না রাখার শাস্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার স্বপ্নে দেখলেন, কিছু লোককে তাদের পায়ের মাংসপেশী দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, এবং তাদের মুখ ছিড়ে রক্ত ঝরছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এরা কারা?" উত্তরে বলা হলো, "এরা সেই লোক, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোযা ভেঙে ফেলত।" (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস: ১৯৮৬)

আরেকটি হাদীসে বলা হয়েছে, কেউ যদি রমযানের একটি রোযাও ইচ্ছাকৃতভাবে না রাখে, তবে সে আজীবন রোযা রাখলেও এর ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না। (সহীহ বুখারী)

রোযার ফযীলত ও পুরস্কার

১. আল্লাহ নিজ হাতে রোযার প্রতিদান দিবেন
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা বলেন, রোযা শুধু আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৮৯৪)

২. রোযাদারদের জন্য জান্নাতে বিশেষ দরজা
হাদীসে আছে, "জান্নাতে 'রাইয়ান' নামে একটি দরজা আছে, যেখানে কেবল রোযাদাররাই প্রবেশ করবে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৮৯৬)

৩. কিয়ামতের দিনে রোযাদারদের জন্য আলাদা পানির ব্যবস্থা থাকবে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ কিয়ামতের দিন রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ হাউজের (পানির উৎস) ব্যবস্থা করবেন, যেখানে কেবল রোযাদাররাই পানি পান করতে পারবে।" (মুসনাদে বাযযার, হাদীস: ৮১১৫)

উপসংহার

রমযানের রোযা ইসলামের অন্যতম ফরয ইবাদত। এটি তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম, গুনাহ মাফের সুযোগ এবং জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম পথ। রোযার ফযীলত অনেক বেশি, আর ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা না রাখার শাস্তিও ভয়াবহ। তাই আমরা যেন যথাযথভাবে রোযা পালন করি এবং আল্লাহর রহমত লাভ করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items