বুদ্ধিমান চোর ও রাজার গল্প



অনেক দিন আগে এক রাজা ছিলেন, যিনি ছিলেন খুব ভালো এবং তার ছিল লম্বা দাড়ি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। দিন হলে রাজপ্রাসাদ ও তার প্রজাদের খোঁজখবর রাখতেন, আর রাতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।

একদিন রাতে রাজা অসহায় মানুষের খবর নিতে বের হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি চারজন লোক দেখতে পেলেন। তারা ভাবলো রাজাও তাদের মতো কেউ হবে। আসলে ওরা ছিল চোর। তারা রাজার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, ‘মুরব্বি, আপনি কে?’ রাজা মনে মনে ভাবলেন, আমি তো তাদের মতোই মানুষ, শুধু আমি দেশের শাসক। তাই তিনি বললেন, ‘আমিও তোমাদের মতো মানুষ।’

তারা ভাবলো, রাজাও চোর। তখন তারা রাজার সাথে চুরির পরিকল্পনা করতে লাগলো। প্রথমজন বললো, ‘আমি কুকুরের ভাষা বুঝতে পারি।’ দ্বিতীয়জন বললো, ‘আমি এক কিল দিয়ে যত বড় দেয়াল হোক, ভেঙে ফেলতে পারি।’ তৃতীয়জন বললো, ‘আমি মাটির ঘ্রাণ শুঁকে বলতে পারি, মাটির নিচে কী আছে।’ চতুর্থজন বললো, ‘আমি রাতের অন্ধকারে যাকে দেখি, দিনের বেলায় তাকে চিনতে পারি।’ তারপর তারা রাজার যোগ্যতা জানতে চাইল। রাজা বললেন, ‘আমার দাড়ির এমন যোগ্যতা আছে যে, যদি কেউ ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে যায়, আর আমার দয়া লাগে, তাহলে আমি তাকে বাঁচিয়ে আনতে পারি।’

তারা খুব খুশি হলো এবং চুরি করতে রাজি হলো। তারা রাজবাড়িতে ঢুকে চুরির কাজ সম্পন্ন করলো। কিন্তু পরদিন রাজদরবারে যখন রাজা তাদের ডাকালেন, তখন তারা ধরা পড়লো এবং ফাঁসির রায় হলো।

চারজনের মধ্যে চতুর্থজন রাজাকে চিনতে পারলো এবং বললো, ‘আমার ইচ্ছা রাজাকে কিছু বলা।’ অনুমতি পেয়ে সে বললো, ‘আমাদের মধ্যে সবাই তার যোগ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। এখন আপনার যোগ্যতার বিকাশ ঘটানোর সময় এসেছে।’

রাজা মুচকি হেসে তাদের ক্ষমা করে দিলেন। তারা সবাই মুক্তি পেয়ে ফিরে গেলো।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items